বিজ্ঞাপন
ফাহিম আহমদ : হঠাৎ করেই যেন ডেঞ্জার জোনে পরিণত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের পৌর শহরের কদমতলি এলাকা।
মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে ঘটেছে দুইটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। আর দুই ঘটনায় দুইটি পরিবারের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিঃস্ব হয়ে গেছে। দুইটি পরিবার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যারা মারা গেছেন তারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের চলে যাওয়াতে শূন্যতা বিরাজ করছে দুইটি পরিবার জুড়ে। আর দুইটি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন মারা যাওয়া দুই জন। এখন এ দুটি পরিবারের কি হবে? কারা দেখবে দুটি পরিবারকে? বিধবা মহিলারা সন্তানদের নিয়ে কি ভাবে চলবেন? এ সকল সন্তানদের ভবিষ্যতে কেমন হবে। এসব প্রশ্ন বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের চোখের সামনে।
জানা যায়, পৌর শহরের কদমতলি এলাকায় গত ৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় সিলেটগামী একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুইজন আহত হোন। এ ঘটনায় পৌর এলাকার ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত মখদ্দছ আলীর ছেলের আলাউদ্দিন (৫০) নামের এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হোন। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আইসিইউ সংকট থাকার কারণে তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি আহত বৃদ্ধের। ৫দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত গত ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
আলা উদ্দিনের মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়েছে পরিবারটি। স্ত্রী, কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারটিতে এখন শুধু শোকের মাতম।
এদিকে একই জায়গায় (১০ এপ্রিল) শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে অবৈধ টমটমের ধাক্কায় গুরুতর আহত হোন পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওহিদ আলীর ছেলে শহিদ আহমদ (৩৪) নামের এক যুবক।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। সেখান থেকে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। ১০ দিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি তারও। গত (২০ এপ্রিল) মঙ্গলবার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন তিনিও। তিনি তৃপ্তি বেকারির গাড়ি চালক ছিলেন।
মৃত্যুকালে শহিদ আহমদ স্ত্রী, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলে ও ৪ বছরের এক মেয়ে রেখে গেছেন। এখন তাদের দেখভাল করছেন তাদের সাথে থাকে পরিবারের অন্য লোকজন।
সরেজমিন দেখা যায়, কত কয়েকদিন থেকে সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। সংস্কার কাজের জন্য এক পাশ বন্ধ থাকলে খোলা থাকে অন্য পাশ। উপজেলার সরকারি এমসি একাডেমির সামন থেকে কদমতলী মসজিদের সামন পর্যন্ত আবার মাত্র কয়েক ফুট বাদ দিয়ে কাজ শুরু করে থানার সামন পর্যন্ত নেওয়া হয়। বাদ দেওয়া অংশ খুঁড়ার কারণে ছোট বড় কয়েকটি গর্ত হয়ে গেছে। আর এই গর্ত গুলোই এখানে দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রায় সময় এই জায়গায় সংস্কার কাজের জন্য গাড়ির জ্যাম লেগে থাকে। এজন্য অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পারাপার হতে হয় মানুষকে।
স্থানীয়রা অতি দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।